Pocket Option ভেরিফিকেশন ও KYC: 2026 ভারত গাইড
ভেরিফিকেশন কেন আছে
তিনটি কারণে: আন্তর্জাতিক অর্থ-পাচার বিরোধী নিয়ম, টাকার মালিকানা নিশ্চিত করা, এবং অ্যাকাউন্ট দখল হওয়া ঠেকানো। তিনটিই আপনার বিরুদ্ধে নয়, তিনটিই ব্যবস্থাটির স্বাভাবিক অংশ।
যাচাইয়ের ধাপটি অনেকের কাছে বিরক্তিকর মনে হয়, বিশেষ করে যখন টাকা তোলার ঠিক আগে সেটি সামনে আসে। কিন্তু কারণটি বুঝলে ধাপটি অনেক কম রহস্যময় লাগে। আর্থিক পরিষেবা যে দেশেই পরিচালিত হোক, তাকে এমন কিছু বৈশ্বিক চর্চা মানতে হয় যেগুলোর মূল লক্ষ্য অজানা উৎসের টাকা ব্যবস্থার ভেতর দিয়ে চলাচল করা ঠেকানো। পরিচয় যাচাই সেই কাঠামোর প্রথম ইট।
দ্বিতীয় কারণটি আরও সরাসরি আপনার স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। একটি অ্যাকাউন্টে যদি নাম, নথি ও পেমেন্ট পদ্ধতি একই ব্যক্তির হয়, তবে টাকা ফেরত যাওয়ার সময় প্রশ্ন ওঠার সুযোগ কম থাকে। উল্টোদিকে, অ্যাকাউন্ট এক জনের নামে আর টাকা এসেছে অন্য কারও পেমেন্ট পদ্ধতি থেকে, এই অবস্থায় পেআউট আটকে যাওয়াই স্বাভাবিক পরিণতি। ভারতীয় ব্যবহারকারীদের মধ্যে এটি একটি খুব সাধারণ সমস্যা, কারণ পরিবারের সদস্যের কার্ড বা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করাকে অনেকে নিরীহ সুবিধা ভাবেন।
তৃতীয় কারণটি নিরাপত্তা। যাচাই সম্পন্ন থাকলে কেউ কেবল পাসওয়ার্ড জেনে অ্যাকাউন্টের টাকা অন্যত্র সরাতে পারে না, কারণ পরিচয় ও পদ্ধতির স্তর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে। এই দিক থেকে দেখলে যাচাই একটি বাধা নয়, বরং একটি তালা।
যাচাই সাধারণত যে জিনিসগুলো নিশ্চিত করতে চায়:
- ব্যক্তিটি বাস্তবে বিদ্যমান এবং নথিটি তাঁরই;
- অ্যাকাউন্টে দেওয়া নাম ও জন্মতারিখ নথির সঙ্গে মেলে;
- ঘোষিত ঠিকানা একটি স্বাধীন নথি দ্বারা সমর্থিত;
- যে পেমেন্ট পদ্ধতি দিয়ে টাকা এসেছে সেটি একই ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে;
- একই ব্যক্তি একাধিক অ্যাকাউন্ট চালাচ্ছেন না।
একটি কথা এখানেই বলে রাখা দরকার, কারণ এটি পুরো লেখার ভিত্তি। এই অপারেটরের যাচাই নীতি, নথির নির্দিষ্ট তালিকা বা প্রক্রিয়ার সময়সীমা সম্পর্কে আমরা কোনো প্রকাশিত দলিল পড়তে পারিনি। তাই নিচে যা বর্ণনা করা হয়েছে তা এই শ্রেণির প্ল্যাটফর্মে যা স্বাভাবিক তারই বিবরণ, কোনো নিশ্চিত নীতি নয়। প্রকৃত দাবি প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব যাচাই পাতায় দেখে নেওয়াই একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ।
যাচাই মূলত টাকার মালিকানা প্রমাণের ব্যবস্থা, তাই যত আগে অ্যাকাউন্টের তথ্য নথির সঙ্গে মিলিয়ে রাখবেন তত কম বাধা আসবে।
ভারতীয় ইউজারদের জন্য নথি
নির্দিষ্ট নথির নাম নয়, শ্রেণি ধরে ভাবাই সঠিক পদ্ধতি: একটি সরকারি ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র, একটি ঠিকানার প্রমাণ, এবং যে পদ্ধতিতে টাকা এসেছে তার প্রমাণ।
ভারতীয় পাঠকরা এই প্রসঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে দুটি শব্দ খোঁজেন তা হলো PAN ও Aadhaar। এটি স্বাভাবিক, কারণ দেশের ভেতরে প্রায় সব আর্থিক প্রক্রিয়ায় এগুলোই ব্যবহৃত হয়। তবু একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে: এই অপারেটর ভারতীয় ব্যবহারকারীর কাছ থেকে ঠিক কোন নথি চায় তা কোনো প্রকাশিত পাতায় আমরা দেখতে পাইনি। তাই PAN বা Aadhaar-কে বাধ্যতামূলক বলে উপস্থাপন করা ভুল হবে, ঠিক যেমন ভুল হবে বলা যে সেগুলো কখনও চাওয়া হয় না।
বদলে শ্রেণি ধরে ভাবলে ছবিটি পরিষ্কার হয়ে যায়:
| নথির শ্রেণি | কী প্রমাণ করে | যা সাধারণত দেখা হয় |
|---|---|---|
| সরকারি ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র | আপনি কে | নাম, জন্মতারিখ, ছবি ও মেয়াদ স্পষ্ট কিনা |
| ঠিকানার প্রমাণ | আপনি কোথায় থাকেন | নাম ও ঠিকানা দৃশ্যমান, নথিটি সাম্প্রতিক কিনা |
| পেমেন্ট পদ্ধতির প্রমাণ | টাকা কার | পদ্ধতিটি অ্যাকাউন্টধারীর নিজের নামে কিনা |
| মাঝেমধ্যে অতিরিক্ত | সন্দেহ নিরসন | নথি হাতে নিয়ে ছবি বা অতিরিক্ত প্রশ্ন |
এই কাঠামোটি মনে রাখলে হঠাৎ কোনো অনুরোধ এলে অপ্রস্তুত লাগে না, কারণ প্রতিটি অনুরোধ এই তিনটি প্রশ্নের কোনো একটির উত্তর খুঁজছে। কোন নির্দিষ্ট কাগজ দিয়ে সেই প্রশ্নের উত্তর দেবেন, সেটি প্ল্যাটফর্ম যা গ্রহণ করে তার উপর নির্ভর করে এবং সেই তালিকা যাচাইয়ের পর্দাতেই দেখানো হয়।
নথি পাঠানোর পথ নিয়ে একটি কঠোর নিয়ম আছে, এবং এতে কোনো ব্যতিক্রম নেই। পরিচয়ের নথি কেবল প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব যাচাই ইন্টারফেসের ভেতর দিয়েই আপলোড করা উচিত। মেসেজিং অ্যাপে, ইমেইলের সংযুক্তি হিসেবে, কোনো "এজেন্টের" কাছে বা কোনো গ্রুপে নথির ছবি পাঠানো নয় — পরিচয়পত্রের একটি ছবি পরিচয় চুরির জন্য যথেষ্ট উপকরণ, এবং একবার বেরিয়ে গেলে সেটি ফেরানো যায় না। কেউ যদি সাপোর্টের নাম করে বাইরের কোনো চ্যানেলে নথি চান, তবে সেটি প্রতারণার একটি পরিচিত ধরন; সাপোর্ট চ্যানেল সংক্রান্ত আলাদা লেখায় এই ধরনটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা আছে।
নির্দিষ্ট কাগজের নাম মুখস্থ করার চেয়ে তিনটি শ্রেণি মনে রাখা বেশি কাজে দেয়, কারণ প্রতিটি অনুরোধ ওই তিনটির একটির উত্তর খোঁজে।
সাধারণ প্রত্যাখ্যানের কারণ
বেশিরভাগ বাতিল হয় প্রযুক্তিগত কারণে, সন্দেহে নয়: ছবি অস্পষ্ট, কোণ কাটা, নাম ভিন্নভাবে লেখা, বা নথির মেয়াদ শেষ। কারণগুলো আগে জানা থাকলে প্রায় সবই এড়ানো যায়।
প্রথম শ্রেণির সমস্যা পুরোপুরি যান্ত্রিক। ঝাপসা ছবি, ফ্ল্যাশের প্রতিফলন, নথির এক কোণ ফ্রেমের বাইরে, কম আলোয় তোলা ছবি যেখানে সংখ্যা পড়া যায় না, বা এমন স্ক্রিনশট যেখানে অন্য কোনো অ্যাপের বার দেখা যাচ্ছে। এগুলো নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, কেবল আবার তুলতে হয় — সমতল জায়গায় নথি রেখে, স্বাভাবিক আলোয়, চার কোণ ফ্রেমের ভেতরে রেখে।
দ্বিতীয় শ্রেণিটি বেশি সময় নেয়, কারণ এখানে তথ্য নিজেই মিলছে না। ভারতীয় প্রেক্ষাপটে এই অমিলগুলো খুব পরিচিত: কোথাও পুরো নাম, কোথাও সংক্ষিপ্ত রূপ; কোথাও পদবি আগে, কোথাও পরে; বানানের ভিন্ন প্রতিলিপি; পুরনো ঠিকানা যা আর বর্তমান নয়; বা বিবাহ-পরবর্তী নাম পরিবর্তন যা সব নথিতে প্রতিফলিত হয়নি। যাচাই ব্যবস্থা এগুলোর কোনো ব্যাখ্যা জানে না, তাই সে কেবল অমিল দেখে এবং জমা ফিরিয়ে দেয়।
অমিল ধরা পড়লে সমাধানের দিকটি একমুখী, এবং এই বিন্দুতে কোনো নমনীয়তা নেই। ঠিক করতে হয় অ্যাকাউন্টের তথ্য, যাতে সেটি আইনি নথির সঙ্গে হুবহু মেলে। কখনওই উল্টোটা নয় — নথির তথ্যকে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে মেলাতে গিয়ে যা জমা দেওয়া হয়, সেটি আর যাচাই থাকে না। পরিচয় বা বসবাসের ঠিকানা ভুলভাবে উপস্থাপন করে কোনো নথি জমা দেওয়া জালিয়াতি, এবং এই সাইট কোনো পরিস্থিতিতে সেই পথের পরামর্শ দেয় না।
তৃতীয় শ্রেণিটি হলো প্রক্রিয়াগত ভুল:
- মেয়াদোত্তীর্ণ পরিচয়পত্র জমা দেওয়া, যা প্রায় সবসময়ই সরাসরি বাতিল হয়;
- এমন ঠিকানা-প্রমাণ যেখানে নাম আছে কিন্তু ঠিকানা নেই, বা উল্টোটা;
- নথির কেবল একটি দিক পাঠানো, যেখানে দুই দিকই দরকার;
- সম্পাদিত বা কেটেছেঁটে পরিষ্কার করা ছবি, যা সিস্টেমে পরিবর্তনের সন্দেহ তৈরি করে;
- এমন পেমেন্ট পদ্ধতির প্রমাণ যা অন্য কারও নামে।
শেষ বিন্দুটি ভারতীয় ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল। কোনো তৃতীয় পক্ষের "টপ-আপ এজেন্ট" দিয়ে বা পরিবারের কারও পদ্ধতি দিয়ে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকালে যাচাইয়ের সময় সেটি মেলে না, আর তখন সমস্যাটি আর কাগজের নয়, টাকার। Pocket Option ডিপোজিট পদ্ধতি সংক্রান্ত লেখায় এই মিলের প্রয়োজনীয়তা আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করা আছে।
অমিল ধরা পড়লে সমাধান একমুখী: অ্যাকাউন্টের তথ্য নথির সঙ্গে মেলান, নথিকে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নয়।
প্রথমবারেই KYC পাস
কাজটা বেশিরভাগই প্রস্তুতির। ফাইল আগে গুছিয়ে রাখা, নির্দেশনা আক্ষরিকভাবে মানা, এবং অতিরিক্ত প্রশ্ন এলে দ্রুত ও শান্তভাবে উত্তর দেওয়া — এই তিনটিই বেশিরভাগ পুনঃজমা এড়িয়ে দেয়।
- অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল খুলে নাম, জন্মতারিখ ও ঠিকানা নিজের নথির সঙ্গে অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে নিন। কোনো অমিল থাকলে জমা দেওয়ার আগেই প্রোফাইল সংশোধন করুন।
- কোন কোন নথি গ্রহণযোগ্য, তা যাচাই পাতায় দেখে নিন এবং সেই তালিকা থেকেই বাছুন। অনুমান করে অন্য কিছু পাঠাবেন না।
- নথিগুলো সমতল জায়গায় রেখে স্বাভাবিক আলোয় ছবি তুলুন, চার কোণ ফ্রেমের ভেতরে রাখুন, এবং প্রতিফলন এড়াতে সরাসরি ফ্ল্যাশ ব্যবহার করবেন না।
- ছবিটি নিজে পড়ে দেখুন। আপনি যদি সংখ্যাগুলো পড়তে না পারেন, যাচাইকারীও পারবেন না।
- ফাইলের ফরম্যাট ও আকার নির্দেশনা অনুযায়ী রাখুন এবং ছবি সম্পাদনা করবেন না, এমনকি সৌন্দর্যের জন্যও নয়।
- কেবল প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব যাচাই ইন্টারফেস দিয়ে আপলোড করুন, অন্য কোনো চ্যানেলে নয়।
- জমা দেওয়ার পরে নোটিফিকেশন ও ইমেইল দেখতে থাকুন। অতিরিক্ত তথ্যের অনুরোধ এলে দ্রুত সাড়া দিন, কারণ প্রতিটি বিলম্ব সারিতে আবার পেছনে নিয়ে যায়।
টাইমিং নিয়ে একটি ব্যবহারিক পরামর্শ। যাচাইয়ের কাজটি টাকা তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেরে রাখাই সবচেয়ে বুদ্ধিমান পথ, কারণ তখন কোনো তাড়া থাকে না। অনেকে উল্টো করেন — টাকা তোলার অনুরোধ দিয়ে তারপর যাচাইয়ের পর্দা দেখে অস্থির হয়ে পড়েন, আর সেই অস্থিরতাতেই তাড়াহুড়ো করে ঝাপসা ছবি পাঠান, যা আবার বাতিল হয়। ফলে সময় বাঁচানোর চেষ্টাই সময় বাড়িয়ে দেয়।
কত সময় লাগবে, সেই প্রশ্নের কোনো নির্দিষ্ট উত্তর আমরা দিই না, কারণ এই অপারেটরের কোনো ঘোষিত সময়সীমা আমরা যাচাই করতে পারিনি এবং সময় নির্ভর করে সারির দৈর্ঘ্য, নথির মান ও অতিরিক্ত প্রশ্নের প্রয়োজনের উপর। অপেক্ষার সময় বারবার নতুন জমা পাঠানো উল্টো ফল দেয়, কারণ একাধিক জমা সারিতে বিভ্রান্তি তৈরি করে।
একটি শেষ প্রস্তুতি: যাচাই শেষ হওয়ার পরে অ্যাকাউন্টে নাম বা ঠিকানা বদলানোর দরকার হলে সেটি নথিসহ করাই ভালো, কারণ যাচাই-পরবর্তী পরিবর্তন প্রায় সবসময় নতুন করে প্রমাণ চায়। আর যেহেতু অ্যাকাউন্টে ঢোকার সময় নিরাপত্তার স্তরগুলোও এই একই পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত, অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেস সংক্রান্ত অভ্যাসগুলো একসঙ্গে গুছিয়ে নেওয়াই সুবিধাজনক।
টাকা তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই যাচাই সেরে রাখলে পুরো প্রক্রিয়াটি তাড়াহুড়োর বাইরে চলে যায়, আর তাড়াহুড়োই বেশিরভাগ বাতিলের কারণ।
ভেরিফিকেশন ও পেআউট
যাচাই আর টাকা তোলা একই শৃঙ্খলের দুই প্রান্ত। পরিচয় নিশ্চিত না হলে পেআউট এগোয় না, আর টাকা যে পথে এসেছে সেই পথে ফেরার নিয়মটিও একই যুক্তি থেকে আসে।
এই শ্রেণির প্ল্যাটফর্মে সাধারণ চর্চা হলো, টাকা যে পদ্ধতিতে অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে সেই পদ্ধতিতেই ফেরত যায়। কার্ডে ঢুকলে কার্ডে, ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারে ঢুকলে ব্যাঙ্কে, আর ক্রিপ্টোতে ঢুকলে সাধারণত সেই পথেই। এটি কোনো বিশেষ নীতি নয়, বরং অর্থ-পাচার বিরোধী চর্চার স্বাভাবিক পরিণতি: টাকার যাত্রাপথ যত সরল, তত কম প্রশ্ন ওঠে। ব্যবহারিক অর্থে এর মানে হলো, ডিপোজিটের সময়েই ঠিক করে ফেলা উচিত যে পরে কোন পথে টাকা ফিরিয়ে আনতে চান।
যাচাই ও পেআউটের সংযোগটি ধাপে ধাপে দেখলে এইরকম দাঁড়ায়:
- অ্যাকাউন্টের নাম ও নথির নাম মেলে, তাই টাকা কার তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে না;
- ঠিকানার প্রমাণ থাকায় ঘোষিত অবস্থান ও অ্যাকাউন্টের তথ্য সঙ্গতিপূর্ণ থাকে;
- পেমেন্ট পদ্ধতির প্রমাণ থাকায় ফেরত পথটি আগেই নির্ধারিত হয়ে যায়;
- এই তিনটি ঠিক থাকলে পেআউটের অনুরোধ কেবল একটি প্রক্রিয়াগত ধাপ, কোনো তদন্ত নয়।
যা দেরি তৈরি করে তা প্রায় সবসময় এই তিনটির কোনো একটিতে ফাঁক থাকা। সবচেয়ে সাধারণ ফাঁকটি হলো তৃতীয় পক্ষের পেমেন্ট, দ্বিতীয়টি নামের অমিল, আর তৃতীয়টি হলো যাচাই সম্পূর্ণ না করে টাকা তোলার অনুরোধ দিয়ে বসা। এই তিনটি এড়ানো গেলে পেআউট সংক্রান্ত বেশিরভাগ অভিযোগের কারণই আর থাকে না। পেআউট প্রক্রিয়া সংক্রান্ত আলাদা লেখায় টাকা তোলার ধাপগুলো বিস্তারিত দেওয়া আছে।
কত দিনে টাকা আসবে সেই প্রশ্নে আমরা কোনো সংখ্যা দিই না, কারণ এই অপারেটরের কোনো নিশ্চিত প্রক্রিয়াকাল আমরা যাচাই করতে পারিনি, এবং সময় নির্ভর করে পদ্ধতি, পর্যালোচনার সারি ও মধ্যবর্তী পরিষেবার উপর। কোনো তৃতীয় পক্ষ যদি "দ্রুত পেআউট" বা "যাচাই ছাড়াই টাকা তোলা" করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন, সেটি প্রতারণা — যাচাইয়ের ধাপ কেউ বাইরে থেকে বাতিল করতে পারে না।
ভারত থেকে টাকা বিদেশে যাওয়া ও ফিরে আসার প্রসঙ্গে একটি কথা প্রাপ্য। সীমান্ত পার হওয়া লেনদেন FEMA ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রেরণ প্রকল্পের আওতায় পড়ে এবং আয় ও বিদেশি সম্পদ ঘোষণার দায়িত্ব করদাতার নিজের থাকে; এই বিষয়ে একজন যোগ্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের সঙ্গে কথা বলা উচিত, কারণ এটি কর বা আইনি পরামর্শ নয়। পাশাপাশি মনে রাখা দরকার যে অপারেটরটি অফশোর ও SEBI-নিবন্ধিত নয়, তাই যাচাই সম্পূর্ণ হলেও কোনো ভারতীয় নিয়ন্ত্রক প্রতিকার তৈরি হয় না। ফিক্সড-টাইম অপশনে পুঁজি সম্পূর্ণ ও দ্রুত হারানো সম্ভব, এবং এই শ্রেণির পণ্যে বেশিরভাগ খুচরো অ্যাকাউন্ট টাকা হারায়। এই লেখার তথ্য ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে দেখা অনুযায়ী; চলতি শর্ত প্ল্যাটফর্মে নিজে যাচাই করে নিন।
যাচাই সম্পূর্ণ থাকলে পেআউট একটি প্রক্রিয়াগত ধাপ মাত্র; ফাঁক থাকলে সেটি হঠাৎ একটি তদন্তে পরিণত হয়।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
Pocket Option-এ KYC-র জন্য কি PAN বা Aadhaar বাধ্যতামূলক?
এই অপারেটর ভারতীয় ব্যবহারকারীর কাছে ঠিক কোন নথি চায় তা কোনো প্রকাশিত পাতায় আমরা দেখতে পাইনি, তাই কোনো নির্দিষ্ট নথিকে বাধ্যতামূলক বলা যাবে না। শ্রেণি ধরে ভাবুন: একটি সরকারি ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র, একটি ঠিকানার প্রমাণ এবং পেমেন্ট পদ্ধতির প্রমাণ। গ্রহণযোগ্য নথির প্রকৃত তালিকা যাচাই পাতাতেই দেখানো হয়।
যাচাই না করলে কি টাকা তোলা যাবে?
এই শ্রেণির প্ল্যাটফর্মে পরিচয় যাচাই সাধারণত পেআউটের আগের শর্ত, কারণ টাকার মালিকানা নিশ্চিত না হলে ফেরত পথ খোলা হয় না। তাই তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই যাচাই সেরে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। কেউ যদি "যাচাই ছাড়াই পেআউট" করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন, সেটি প্রতারণা — এই ধাপ বাইরে থেকে কেউ বাতিল করতে পারে না।
নামের বানান নথির সঙ্গে না মিললে কী করব?
অ্যাকাউন্টের তথ্য সংশোধন করে আইনি নথির সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে দিন। সমাধানটি একমুখী: নথিকে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা কখনও নয়। পরিচয় বা বসবাসের ঠিকানা ভুলভাবে উপস্থাপন করে নথি জমা দেওয়া জালিয়াতি। বিবাহ-পরবর্তী নাম পরিবর্তনের মতো বৈধ কারণ থাকলে সহায়ক নথিসহ সাপোর্টকে বিষয়টি জানানোই সঠিক পথ।
নথির ছবি কি সাপোর্টকে ইমেইল বা মেসেজে পাঠানো যায়?
না। পরিচয়ের নথি কেবল প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব যাচাই ইন্টারফেসের ভেতর দিয়েই আপলোড করা উচিত। মেসেজিং অ্যাপ, গ্রুপ বা কোনো "এজেন্টের" মাধ্যমে পাঠানো নথি একবার বেরিয়ে গেলে ফেরানো যায় না, আর পরিচয়পত্রের একটি ছবিই পরিচয় চুরির জন্য যথেষ্ট। বাইরের চ্যানেলে নথি চাওয়া প্রতারণার একটি পরিচিত ধরন।
যাচাই বাতিল হলে আবার চেষ্টা করা যায়?
সাধারণত যায়, এবং বেশিরভাগ বাতিলের কারণ প্রযুক্তিগত — ঝাপসা ছবি, কাটা কোণ, মেয়াদোত্তীর্ণ নথি বা অস্পষ্ট সংখ্যা। বার্তায় যে কারণটি বলা হয়েছে সেটি পড়ে ঠিক সেই সমস্যাটি সমাধান করুন, তারপর একবারই নতুন জমা দিন। অপেক্ষার সময় বারবার নতুন জমা পাঠালে সারিতে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ হয়।