ভারতে Pocket Option অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম: 2026 সংক্ষিপ্ত

·

ভারতে Pocket Option অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম: 2026 সংক্ষিপ্ত

প্রোগ্রামটি কী

একটি অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম হলো বিপণনের একটি ব্যবস্থা: ব্র্যান্ড নিজে বিজ্ঞাপন কেনার বদলে বাইরের প্রকাশকদের ফলাফলের ভিত্তিতে পারিশ্রমিক দেয়। ট্রেডিং এখানে জড়িত নয়।

প্রথমেই দুটি সম্পূর্ণ আলাদা জিনিসকে আলাদা রাখা দরকার, কারণ ভারতীয় অনুসন্ধানে এই দুটি প্রায়ই এক হয়ে যায়। প্ল্যাটফর্মে ট্রেড করা মানে বাজারের গতিবিধির উপর টাকা বসানো, যেখানে ফল অনিশ্চিত এবং পুঁজি হারানো সম্ভব। অ্যাফিলিয়েট হওয়া মানে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি কাজ — একটি দর্শক তৈরি করা এবং সেই দর্শককে ব্র্যান্ডের কাছে পাঠানো। দ্বিতীয় কাজটিতে বাজারের ঝুঁকি নেই, কিন্তু এর নিজস্ব ঝুঁকি আছে, আর সেগুলো কম আলোচিত।

অপারেটর একটি পার্টনার বা অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামকে একটি শ্রেণি হিসেবে বিজ্ঞাপন করে। এর কাঠামোগত বিবরণ — পারিশ্রমিকের মডেল, হার, স্তর, ন্যূনতম সীমা বা পরিশোধের সময় — আমরা কোনো প্রকাশিত পাতায় যাচাই করতে পারিনি, তাই এই লেখায় কোনো সংখ্যা নেই। যা আছে তা হলো এই ধরনের প্রোগ্রাম সাধারণত কীভাবে গঠিত হয়, যাতে কেউ প্রকৃত শর্ত পড়ার সময় কী খুঁজবেন তা জানেন।

কারা এই প্রোগ্রামে আসেন, তার একটি সাধারণ চিত্র আছে:

  • যাঁরা আর্থিক বা ট্রেডিং বিষয়ে নিয়মিত লেখেন বা ভিডিও বানান;
  • যাঁদের ইতিমধ্যে একটি নির্দিষ্ট আগ্রহের দর্শক আছে;
  • যাঁরা তুলনা বা পর্যালোচনামূলক ওয়েবসাইট চালান;
  • যাঁরা বিজ্ঞাপন কিনে ট্রাফিক আনার কাজ পেশাগতভাবে করেন।

এবার আমাদের নিজেদের অবস্থানের কথা, কারণ এই পাতায় সেটি না বললে বাকি সব পরামর্শের বিশ্বাসযোগ্যতা থাকে না। TradeLens একটি স্বাধীন প্রকাশনা, তবে এই ধরনের প্রকাশনার আয়ের মডেল অ্যাফিলিয়েট অংশীদারিত্বই — অর্থাৎ ব্র্যান্ডের কাছে পাঠক পাঠানোর বিনিময়ে পারিশ্রমিক পাওয়া। এই বাস্তবতাটি জানা থাকলে যেকোনো পর্যালোচনা, এই সাইটেরটি সহ, আরও ভালোভাবে পড়া যায়। বর্তমানে এই সাইটে কোনো পার্টনার লিঙ্ক বা সাইন-আপ বোতাম বসানো নেই, এবং আমরা কোনো পাঠককে অ্যাকাউন্ট খুলতে উৎসাহ দিই না।

এই স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনাটি পাঠকের জন্য একটি ব্যবহারিক সরঞ্জামও বটে। যেকোনো পর্যালোচনা পড়ার সময় দেখুন লেখাটি তার আর্থিক সম্পর্ক প্রকাশ করছে কিনা, এবং সমালোচনার অংশটি নির্দিষ্ট নাকি কেবল আনুষ্ঠানিক। যে লেখা কোনো নেতিবাচক দিক খুঁজে পায় না, সেটি সাধারণত পর্যালোচনা নয়, বিজ্ঞাপন।

অ্যাফিলিয়েট হওয়া আর ট্রেড করা সম্পূর্ণ আলাদা কাজ, আলাদা দক্ষতা ও আলাদা ঝুঁকির — দুটিকে এক ভাবলে দুটিতেই ভুল হয়।

এটি কীভাবে কাজ করে

কাঠামোটি সব প্রোগ্রামেই মোটামুটি একই: একটি অনন্য রেফারেল লিঙ্ক, লিঙ্কের মাধ্যমে আসা ব্যবহারকারীর কার্যকলাপের হিসাব, এবং সেই হিসাবের ভিত্তিতে নির্ধারিত পারিশ্রমিক।

প্রক্রিয়াটি শুরু হয় একটি পার্টনার অ্যাকাউন্ট দিয়ে, যা ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট থেকে আলাদা। অনুমোদিত হলে একটি অনন্য শনাক্তকারীসহ লিঙ্ক তৈরি হয়, এবং সেই লিঙ্ক দিয়ে কেউ প্ল্যাটফর্মে গেলে সিস্টেম তাঁকে ওই পার্টনারের সঙ্গে যুক্ত করে রাখে। এরপর ওই ব্যবহারকারীর কার্যকলাপ পার্টনারের ড্যাশবোর্ডে হিসাব আকারে দেখা যায়।

পারিশ্রমিকের মডেলগুলো সাধারণত তিনটি পরিবারে পড়ে, এবং তিনটির প্রণোদনা আলাদা:

মডেলযার ভিত্তিতে পারিশ্রমিকযে প্রণোদনা তৈরি করে
রাজস্ব-ভাগরেফার করা ব্যবহারকারীর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকলাপদীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারকারী আনার দিকে ঝোঁক
নির্দিষ্ট অঙ্কের প্রতি-অধিগ্রহণএকটি শর্ত পূরণকারী নতুন অ্যাকাউন্টসংখ্যার দিকে ঝোঁক, মানের দিকে কম
মিশ্রউভয়ের সংমিশ্রণশর্ত জটিল, পড়া বাধ্যতামূলক

স্তর বা টিয়ার ব্যবস্থার ধারণাটিও সাধারণ: কার্যকলাপ বাড়লে পারিশ্রমিকের শর্ত বদলায়। আমরা কোনো স্তরের নাম, সীমা বা হার প্রকাশ করি না, কারণ এই অপারেটরের ক্ষেত্রে সেগুলো যাচাই করা যায়নি এবং এই ধরনের শর্ত আগাম নোটিশ ছাড়াই বদলাতে পারে।

প্রকৃত শর্তাবলিতে যেসব বিন্দু সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, অথচ সবচেয়ে কম পড়া হয়:

  • একটি রেফারেল কতদিন পার্টনারের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং কীসের ভিত্তিতে সেই সংযোগ শেষ হয়;
  • কোন কার্যকলাপকে "যোগ্য" ধরা হয় এবং কোনটিকে নয়;
  • কোন প্রচার পদ্ধতি নিষিদ্ধ, যেমন ব্র্যান্ডের নামে বিজ্ঞাপন বা অসত্য দাবি;
  • কোন পরিস্থিতিতে পারিশ্রমিক আটকে রাখা বা বাতিল করা যায়;
  • অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় থাকলে কী হয়;
  • শর্তাবলি বদলানোর অধিকার কার এবং তা কীভাবে জানানো হয়।

শেষ দুটি বিন্দু সবচেয়ে বেশি অবহেলিত এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর, কারণ এগুলোই নির্ধারণ করে যে দীর্ঘ পরিশ্রমে তৈরি করা একটি আয়ের ধারা কত সহজে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

মডেলটি কী তার চেয়েও বেশি জরুরি হলো শর্তাবলির সেই অংশ যেখানে লেখা থাকে কখন পারিশ্রমিক আটকে রাখা যায়।

পার্টনার পেআউট

পার্টনারের টাকা তোলার কাঠামো ট্রেডিং অ্যাকাউন্টের মতোই: পরিচয় যাচাই, একটি ন্যূনতম সীমা, নির্দিষ্ট পদ্ধতি এবং পদ্ধতির মিলের নিয়ম। কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক বা সময় আমরা প্রকাশ করি না।

পার্টনার পেআউটের ধাপগুলো সাধারণত এইভাবে সাজানো থাকে। প্রথমে পার্টনার অ্যাকাউন্টে পারিশ্রমিক জমা হতে থাকে, এবং সেটি একটি ন্যূনতম সীমা পার করলে তোলার অনুরোধ করা যায়। অনুরোধের আগে পরিচয় যাচাই সম্পন্ন থাকতে হয়, ঠিক যেমন ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে থাকে, কারণ একই অর্থ-পাচার বিরোধী কাঠামো এখানেও প্রযোজ্য।

পদ্ধতির মিলের নিয়মটি এখানেও কাজ করে, তবে একটু ভিন্নভাবে। পার্টনার সাধারণত টাকা ঢোকান না, তাই "যে পথে এসেছে সেই পথে ফেরত" নিয়মটি সরাসরি প্রযোজ্য নয়; বদলে যা দেখা হয় তা হলো পেমেন্ট পদ্ধতিটি পার্টনারের নিজের নামে কিনা। অন্য কারও অ্যাকাউন্টে পারিশ্রমিক নেওয়ার চেষ্টা প্রায় সব প্রোগ্রামেই শর্তবিরুদ্ধ এবং সেটি অ্যাকাউন্ট স্থগিত হওয়ার একটি সাধারণ কারণ।

ভারতীয় পার্টনারের জন্য এখানে একটি অতিরিক্ত স্তর যুক্ত হয়, যা প্রায়ই দেরিতে খেয়াল করা হয়। পারিশ্রমিক সাধারণত বিদেশি মুদ্রায় হিসাব হয় এবং বিদেশ থেকে আসে, ফলে এটি একটি সীমান্ত-পার লেনদেন। এর সঙ্গে জড়িত থাকে ব্যাঙ্কের নিজস্ব প্রশ্ন, মুদ্রা রূপান্তর, এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত নিয়মকানুন। আমরা কোনো হার, সীমা বা ফরম নম্বর উল্লেখ করি না — এই ধরনের আয় কীভাবে হিসাব ও ঘোষণা করতে হবে তা একজন যোগ্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের সঙ্গে আলোচনা করাই সঠিক পথ, এবং এই লেখা কর বা আইনি পরামর্শ নয়।

যে বিষয়গুলো পারিশ্রমিক পাওয়ায় দেরি বা বাধা তৈরি করে:

  • পার্টনার অ্যাকাউন্টের পরিচয় যাচাই অসম্পূর্ণ থাকা;
  • পার্টনারের নাম ও পেমেন্ট পদ্ধতির নামে অমিল;
  • শর্তবিরুদ্ধ প্রচার পদ্ধতি ব্যবহারের অভিযোগ;
  • রেফার করা অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে অস্বাভাবিক প্যাটার্ন;
  • ন্যূনতম সীমায় না পৌঁছানো, যা নতুন পার্টনারদের সবচেয়ে সাধারণ অভিজ্ঞতা।

শেষ বিন্দুটি নিয়ে একটি বাস্তব প্রত্যাশা তৈরি করা দরকার। ছোট বা নতুন দর্শকের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সীমায় পৌঁছাতেই দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে, এবং সেই সময়টুকু কাজ করে যেতে হয় কোনো প্রাপ্তি ছাড়াই। এই কারণেই অ্যাফিলিয়েট কাজকে দ্রুত আয়ের পথ হিসেবে দেখা প্রায় সবসময়ই হতাশায় শেষ হয়।

পার্টনার পেআউটও পরিচয় যাচাই ও নামের মিলের উপর দাঁড়ায়, তাই কাজ শুরু করার আগেই সেই দিকটি গুছিয়ে রাখা ভালো।

ঝুঁকি ও সতর্কতা

তিনটি ঝুঁকি এখানে বাস্তব: একটি অফশোর ব্র্যান্ডের উপর নির্ভরতা, ভারতীয় প্রচার ও প্রকাশ সংক্রান্ত দায়িত্ব, এবং নিজের দর্শকের সঙ্গে সততার প্রশ্ন।

নির্ভরতার ঝুঁকিটি কাঠামোগত। একটি অ্যাফিলিয়েট সম্পর্কের প্রায় সব নিয়ন্ত্রণ ব্র্যান্ডের হাতে থাকে: শর্ত বদলানো, কোনো অঞ্চলে কার্যক্রম বন্ধ করা, প্রোগ্রামটি নতুন করে সাজানো, বা পার্টনার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা। পার্টনারের হাতে থাকে কেবল তাঁর নিজের দর্শক। এই কারণেই একটিমাত্র ব্র্যান্ডের উপর পুরো আয় দাঁড় করানো ঝুঁকিপূর্ণ, আর অফশোর ও অনিয়ন্ত্রিত ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি বেশি, কারণ বিরোধ হলে কোনো ভারতীয় প্রতিকার ব্যবস্থা নেই।

দ্বিতীয় ঝুঁকিটি প্রচার সংক্রান্ত, এবং এটি ভারতীয় প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। আর্থিক পণ্যের প্রচারে বিজ্ঞাপনের মান, বিভ্রান্তিকর দাবি ও প্রকাশ সংক্রান্ত প্রত্যাশা প্রযোজ্য হয়, এবং সেই দায় প্রচারকারীর নিজের। একটি অনিয়ন্ত্রিত অফশোর পণ্যের প্রচারে এই দায়িত্ব আরও ভারী, কারণ ব্র্যান্ডটি ভারতীয় নিয়ন্ত্রক কাঠামোর বাইরে থাকলেও প্রচারকারী ভারতে বসেই কাজ করছেন। নিয়ন্ত্রক প্রেক্ষাপটটি SEBI ও RBI নিয়ম সংক্রান্ত লেখায় বিস্তারিত আলোচিত।

যেসব প্রচার-অভ্যাস স্পষ্টভাবে এড়ানো উচিত:

  • লাভ, আয় বা সাফল্যের হার সংক্রান্ত কোনো দাবি বা অনুমান প্রকাশ করা;
  • ঝুঁকির কথা গোপন রাখা বা ছোট করে দেখানো;
  • আর্থিক সম্পর্ক প্রকাশ না করা;
  • বৈধতা বা নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সম্পর্কে অনিশ্চিত দাবি করা;
  • কারও কাছ থেকে লগইন তথ্য চাওয়া বা "ম্যানেজড অ্যাকাউন্ট" জাতীয় প্রস্তাব দেওয়া;
  • কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক জমা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া।

তৃতীয় ঝুঁকিটি নৈতিক এবং একই সঙ্গে ব্যবহারিক। যে পণ্যের প্রচার করা হচ্ছে সেটি উচ্চ ঝুঁকির, এবং এই শ্রেণিতে বেশিরভাগ খুচরো অ্যাকাউন্ট টাকা হারায়। একজন পার্টনার যদি এই বাস্তবতা গোপন করে দর্শক আনেন, তবে স্বল্পমেয়াদে সংখ্যা বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা শেষ হয়ে যায়, আর একটি দর্শকের জন্য বিশ্বাসযোগ্যতাই একমাত্র সম্পদ। পণ্যটির কাঠামোগত ঝুঁকি বাইনারি অপশনস ঝুঁকি সংক্রান্ত লেখায় খোলাখুলি আলোচনা করা আছে, এবং যেকোনো সৎ প্রচারে সেই দিকটি অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।

একটি অফশোর ব্র্যান্ডের উপর পুরো আয় দাঁড় করানো মানে নিজের ব্যবসার শর্তাবলি অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়া।

কার জন্য উপযুক্ত

যাঁদের ইতিমধ্যে একটি প্রকৃত দর্শক আছে এবং যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে কনটেন্ট বানাতে প্রস্তুত, তাঁদের জন্য এটি একটি সম্ভাব্য পথ। যাঁরা দ্রুত আয়ের আশায় আসেন, তাঁদের জন্য নয়।

একটি সরল হিসাব দিয়ে শুরু করা যাক, যেখানে কোনো সংখ্যা লাগে না। অ্যাফিলিয়েট আয় তৈরি হয় তখনই যখন যথেষ্ট সংখ্যক মানুষ আপনার কাজ দেখেন, তার মধ্যে একটি অংশ আগ্রহী হন, এবং তার মধ্যেও একটি ছোট অংশ শেষ পর্যন্ত সক্রিয় ব্যবহারকারীতে পরিণত হন। প্রতিটি ধাপেই সংখ্যা কমে, তাই শুরুর দিকের ট্রাফিক ছোট হলে শেষ প্রান্তে প্রায় কিছুই থাকে না। এই কারণেই দর্শক তৈরির কাজটিই আসল কাজ, আর প্রোগ্রামে যোগ দেওয়া তুলনায় তুচ্ছ একটি ধাপ।

এই কাজটি সাধারণত যাঁদের জন্য অর্থবহ হয়:

  • যাঁরা আর্থিক বা ট্রেডিং বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে লেখেন বা ভিডিও বানান এবং সেটি চালিয়ে যেতে প্রস্তুত;
  • যাঁদের দর্শকের সঙ্গে ইতিমধ্যে একটি বিশ্বাসের সম্পর্ক আছে;
  • যাঁরা ঝুঁকির কথা স্পষ্টভাবে বলতে ইচ্ছুক, এমনকি তাতে রূপান্তর কমলেও;
  • যাঁরা কর ও বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত দিকটি পেশাদারের সঙ্গে গুছিয়ে নিতে প্রস্তুত;
  • যাঁদের আয়ের একাধিক উৎস আছে, তাই একটি প্রোগ্রাম বন্ধ হলেও ক্ষতি সীমিত।

এবং যাঁদের জন্য এটি উপযুক্ত নয়, সেই তালিকাটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা দ্রুত বা নিশ্চিত আয়ের আশায় আসছেন, যাঁদের কোনো দর্শক নেই এবং তৈরি করার পরিকল্পনাও নেই, যাঁরা মেসেজিং গ্রুপে লিঙ্ক ছড়িয়ে দিয়ে ফল আশা করেন, বা যাঁরা ট্রেডিংয়ে হারানো টাকা এভাবে পুষিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন — এই সবগুলো ক্ষেত্রেই ফল সাধারণত হতাশা, এবং শেষ ক্ষেত্রটিতে ক্ষতির উপর অতিরিক্ত সময়ের অপচয়ও যুক্ত হয়।

বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা বলতে যা বোঝায়: প্রথম দিকে দীর্ঘ সময় কোনো প্রাপ্তি ছাড়াই কাজ করতে হয়, ফলাফল অনিশ্চিত, এবং শর্তাবলি আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে বদলাতে পারে। এটি একটি ব্যবসা, কোনো আয়ের পরিকল্পনা নয়, এবং যেকোনো ব্যবসার মতোই এখানে বেশিরভাগ প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্য কিছুতে পৌঁছায় না।

শেষে সেই কথাটি আবার, যা এই পুরো আলোচনার পটভূমি। যে পণ্যের কথা বলা হচ্ছে তা উচ্চ ঝুঁকির স্বল্প-মেয়াদি ফাটকা, অপারেটরটি অফশোর ও SEBI-নিবন্ধিত নয়, এবং কোনো ভারতীয় নিয়ন্ত্রক প্রতিকার এখানে প্রযোজ্য নয়। ব্র্যান্ডটি আসলে কী দেয় সেই সাধারণ ব্যাখ্যা Pocket Option কী লেখায় আলাদাভাবে দেওয়া আছে। এই লেখার তথ্য ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে দেখা অনুযায়ী; প্রোগ্রামের শর্ত বদলায়, তাই সিদ্ধান্তের আগে চলতি শর্তাবলি নিজে পড়ে নেওয়াই একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ।

আসল কাজটি দর্শক তৈরি করা; প্রোগ্রামে যোগ দেওয়া তার তুলনায় একটি ছোট প্রশাসনিক ধাপ মাত্র।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

কমিশন কত শতাংশ পাওয়া যায়?

আমরা কোনো কমিশন হার, স্তর বা আয়ের অঙ্ক প্রকাশ করি না, কারণ এই অপারেটরের ক্ষেত্রে সেই বিবরণ কোনো প্রকাশিত পাতায় যাচাই করা যায়নি এবং এই ধরনের শর্ত আগাম নোটিশ ছাড়াই বদলাতে পারে। মডেলগুলো সাধারণত রাজস্ব-ভাগ, নির্দিষ্ট অঙ্কের প্রতি-অধিগ্রহণ বা এই দুইয়ের মিশ্রণ হয়। প্রকৃত শর্ত প্রোগ্রামের নিজস্ব পাতাতেই পড়ে নেওয়া উচিত।

এই সাইট কি Pocket Option থেকে টাকা পায়?

TradeLens-এর মতো প্রকাশনার আয়ের মডেল অ্যাফিলিয়েট অংশীদারিত্ব, অর্থাৎ ব্র্যান্ডের কাছে পাঠক পাঠানোর বিনিময়ে পারিশ্রমিক পাওয়া — এটি আমরা খোলাখুলি জানাচ্ছি, কারণ এই তথ্য ছাড়া কোনো পর্যালোচনা সঠিকভাবে পড়া যায় না। এই মুহূর্তে এই সাইটে কোনো পার্টনার লিঙ্ক বা সাইন-আপ বোতাম বসানো নেই।

অ্যাফিলিয়েট আয়ের উপর ভারতে কর দিতে হয়?

বিদেশ থেকে আসা আয় ও বিদেশি সম্পদ সংক্রান্ত ঘোষণার দায়িত্ব করদাতার নিজের থাকে, এবং একটি অফশোর প্ল্যাটফর্ম সাধারণত ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে কিছু জানায় না বা উৎসে কর কাটে না। আমরা কোনো হার, সীমা, সময়সীমা বা ফরম নম্বর উল্লেখ করি না। একজন যোগ্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের সঙ্গে আলোচনা করুন; এই লেখা কর বা আইনি পরামর্শ নয়।

দর্শক ছাড়া কি অ্যাফিলিয়েট হিসেবে আয় করা সম্ভব?

বাস্তবে খুব কঠিন, কারণ পুরো কাঠামোটি সংখ্যার উপর দাঁড়ায়: অনেক মানুষ দেখেন, একটি অংশ আগ্রহী হন, আর তার মধ্যেও ছোট একটি অংশ সক্রিয় ব্যবহারকারীতে পরিণত হন। শুরুর ট্রাফিক ছোট হলে শেষ প্রান্তে প্রায় কিছুই থাকে না। মেসেজিং গ্রুপে লিঙ্ক ছড়ানো সাধারণত ফল দেয় না এবং অনেক প্রোগ্রামে সেটি শর্তবিরুদ্ধও।

পার্টনার হিসেবে টাকা তুলতে কী কী লাগে?

সাধারণত একটি সম্পন্ন পরিচয় যাচাই, একটি ন্যূনতম জমার সীমা পার করা, এবং পার্টনারের নিজের নামে থাকা একটি পেমেন্ট পদ্ধতি। অন্য কারও অ্যাকাউন্টে পারিশ্রমিক নেওয়ার চেষ্টা প্রায় সব প্রোগ্রামেই শর্তবিরুদ্ধ। নির্দিষ্ট সীমা বা প্রক্রিয়াকাল আমরা প্রকাশ করি না, কারণ সেগুলো যাচাই করা যায়নি এবং বদলাতে পারে।